প্রথম ঘটনা ঃ
ইসলাম গ্রহনে মা'য়ের বাধা।
হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম যখন ঈমান আনেন তখন তাঁর মা খুব বেশী আপত্তি করেন, এবং অনেক চিল্লা ফাল্লা হৈ চৈ শুরু করে দেন। এবং তাঁর হামনা(রাঃ) তায়ালা আনহুমা এক সময় বলে বসেন যে তুমি যতক্ষন মুহাম্মাদ(সাঃ) এর রিসালাতের অস্বীকৃতি না দাও, ততক্ষন আমি কোন খাদ্য এবং পানীয় গ্রহন করবোনা, এবং ছায়াতেও আসবোনা। তিনি রোদ্রে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং সব কিছু বর্জন করলেন। এই অবস্থ্যা দেখে হযরত সা'স (রাঃ) ভীষণ বিপদে পড়ে গেলেন, এবং তিনি মা'কে
যতই শান্তনা দিচ্ছিলেন কোন কাজ হচিছল না। এবং তাঁর এও বললেন "মায়ের আনুগত্যের হুকুম আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন, আমার কথা শুনলে তুমি অবাধ্য সন্তান হিসেবে বিবেচিত হবে, মায়ের সাথে কোন সম্পর্ক থাকবেনা।অবশেষে তিনি নিরুপায় হয়ে রাসুল (সঃ) কাছে গেলেন এবং বিস্তারিত খুলে বললেন।
রাসুল(সঃ) কাছ থেকে জবাব পাওয়ার পূর্বেই সূরা আনকাবুতের অষ্টম আয়াতটি নাজিল হয়ে যায়।
" আমি মানুষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছি পিতা মাতার আনুগত্য করতে, কিন্ত পিতা মাতা যদি আমার সাথে অন্য কারো শরীক করতে বলে যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই , তাহলে তুমি মেননা।"
কোরআনের এই আয়াতটি হযরত সা'দের মানসিক অস্থিরতা দূর করে দিলো। তাঁর দিন কারো সাথে কথা বললেন না, কিছু খেলেন না, এবং ছায়াতেও এলেন না । তিনি তাঁর মা'কে বার বার বোঝাতে চাইলেন কিন্ত তাঁর মায়ের একই কথা তুমি যতক্ষন ইসলাম ত্যাগ না করবে আমি কোন কথাই শুনবো না ।
অবশেষে সা'দ তার মায়ের মুখের উপর বলে দিলেন--"মা' আপনার মতো হাজারটি মাও যদি আমার ইসলাম ত্যাগের ব্যাপারে জিদ করে খানা পানি ছেড়ে দিয়ে মৃত্যু বরন করে, তাহলেও আমাকে ইসলামের পথ থেকে এক পা নড়াতে পারবে ন।" হযরত সা'দের কথা মায়ের মনে দাগ কেটে গেলো, এবং তিনিও ইসলাম গ্রহন করলেন।
দ্বিতীয়তঃ
দিজলার তীরে দাড়িয়ে হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) সেই ঐতিহাসিক ভাষণঃ
ওহে আল্লাহ'র বান্দা, দ্বীনের সিপাহীরা ! সাসানী শাসকরা আল্লাহর বান্দাহদেরকে দাসত্বের শৃঙ্কলে আবদ্ধ করে মিথ্যা বানোয়াট কথার মাধ্যমে ধোঁকা দিয়ে অগ্নি ও সূর্যের পূজা করতে বাধ্য করেছে।
তাদের ঘামঝড়া কস্টোপার্জিত সম্পদ নিজেদের পুঞ্জিভূত করেছে। তোমরা যখন তাদের পরিত্রান ধাতা হিসেবে উপস্থিত হয়েছো, তখন তারা পালাবার পথ ধরেছে এবং দরিদ্র জন সাধারনের ধন সম্পদ ঘোরা ও গাধার পিঠে বোঝাই করেছে । আমরা কখনো তাদের এমন সুযোগ দেবো না । তাদের বাহনের উপর বোঝাই ধন সম্পদ যাতে ছিনিয়ে নিতে না পারি সেই জন্য তারা পুল কালবার্ট ভেংগে দিয়েছে। কিন্ত ইরানীরা আমাদের সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। তারা জানে না আল্লাহর উপর ভরসাকারীরা, এবং মানবতার সেবকেরা, পুল বা নৌকার উপর ভরসা করেনা। আমি পরম দয়ালু আল্লাহর নামে আমার ঘোড়াটি নদিতে নামিয়ে দিচিছ । তোমরা আমার অনুসরন করো। একজনের পেছনে অন্য জন একজনের পাশে অন্য জন সারিবদ্ধভাবে দিজলা পার হও। আল্লাহ তোমাদের সাহায্য ও হিফাযত করুন।"
ভাষণ শেষ করে হযরত সা'দ নিজের ঘোড়াটি বিসমিল্লাহ বলে নদিতে চালিয়ে দিলেন । অন্য মুজাহিদরাও তাদের সেনাপতিকে অনুসরণ করলেন। নদী ছিলো অশান্ত । কিন্ত আল্লাহর সিপাহীদের সারিতে একটুও বিশৃঙ্খলা দেখা দিলো না। তাঁরা সারিবদ্ধভাবে নদী পার হয়ে তীরে পৌঁছলেন । ইরানী সৈন্যরা একটু নিরাপদ দুরত্বে দাড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছিল।তার বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলো। অবলীলাক্রমে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো "দৈত্য আসছে পালাও ।"
মুসলিম মুজাহিদদের এই আকস্মিক হামলায় বাদশা ইয়াজদিগিরদ অগনিত ধন রত্ন ফেলে ময়দান ত্যাগ করে হাওলানের দিকে যাত্রা করে । হযরত সা'দ নির্জন শ্বেত প্রাসাদে প্রবেশ করেলেন। পরিবেশ ছিলো ভয়াবহ। প্রাসাদের প্রতিটি কক্ষ যেন ছিলো শিক্ষা ও উপদেশের স্বারক। হযরত সা'দের মুখ থেকে বেড়িয়ে এলো সুরা দুখানের এ আয়াত গুলি।
"তারা পেছনে ছেড়ে গিয়েছিলো কত উদ্যান ও প্রস্রবন, কত শস্য ক্ষেত ও সুরম্য প্রাসাদ,এবং বিলাশ উপকরণ, যা তাদের আনন্দ দিতো ! এমনটিই ঘটেছিলো এবং আমি এসব কিছুর উত্তরাধিকার করেছিলাম অন্য সম্প্রদায়কে । (সূরা দুখান-২৫-২৮)
তৃতীয়ঃ মিথ্যা স্বাক্ষ্যদানকারীর প্রতি বদদোয়াঃ
হযরত সা’দের বিরুদ্ধে উসামা ইবন কাতাদা নামক কুফার যে লোকটি খলীফা উমারের নিকট কসম করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিল, সা’দ তার ওপর বদ-দুআ করে তিনটি জিনিস তার জন্য আল্লাহর নিকট কামনা করেনঃ আল্লাহ যেন তাকে দীর্ঘজীবি করেন, দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত করেন এবং তার সত্তাকে ফিতনার শিকারে পরিণত করেন। ঐতিহাসিকরা বলেছেন, তাঁর এ দুআ অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ তিনি তো ছিলেন ‘মুজতাজাবুদ দাওয়াহ' স্বয়ং রাসূল সা. তাঁর জন্যে দু’আ করেছেনঃ ‘হে আল্লাহ, আপনি সা’দের দু’আ কবুল করুন, যখন সে দু’আ করবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন